ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যবসার আশা, বাড়ছে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হবে এবারের বিশ্বকাপ |

ফিফা বিশ্বকাপ সাধারণত স্বাগতিক দেশ ও শহরগুলোর জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে। পর্যটকের আগমন, হোটেল ব্যবসার প্রসার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এমন আয়োজনকে অনেকেই অর্থনৈতিক আশীর্বাদ হিসেবে দেখেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিশ্বকাপ ঘিরে সেই প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য বলছে, আয়োজক শহরগুলোর অনেক হোটেল এখনো প্রত্যাশিত বুকিং পায়নি। পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, ভিসা জটিলতা, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি বিদেশি দর্শকদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগ অনেক আন্তর্জাতিক সমর্থককে নিরুৎসাহিত করেছে।

শুধু বিদেশি দর্শকরাই নন, দেশীয় দর্শকদের মধ্যেও ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চাকরির বাজারে স্থবিরতা এবং জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেকেই বিশ্বকাপ উপলক্ষে অতিরিক্ত খরচ করতে অনাগ্রহী। ফলে আয়োজক শহরগুলোর প্রত্যাশিত পর্যটন আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপের টিকিট মূল্যও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সমর্থক সংগঠনের দাবি, টিকিটের দাম আগের আসরগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি, যা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম কয়েক হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে।

পর্যটন খাতের কিছু বড় প্রতিষ্ঠান অবশ্য এখনো আশাবাদী। তাদের ধারণা, টুর্নামেন্ট যত ঘনিয়ে আসবে, বুকিং তত বাড়বে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দর্শকদের প্রত্যাশিত উপস্থিতি না হলে আয়োজক শহরগুলোর অর্থনৈতিক লাভ পরিকল্পনার তুলনায় কম হতে পারে।

অন্যদিকে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি শহরে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা, সড়ক উন্নয়ন এবং নগর সংযোগ বাড়ানোর মতো প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে শহরগুলোর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ঘিরে এখনো বড় প্রত্যাশা থাকলেও উচ্চ ব্যয়, কম পর্যটন চাহিদা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে মার্কিন শহরগুলো কতটা অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসছে

1

এনসিপি নেত্রী নুসরাতের মনোনয়নপত্র বাছাই ২ মে

2

বাবার ‘প্রতারণায়’ দেউলিয়ার পথে ব্রাজিল তারকা রাফিনিয়া

3

হাইকোর্টের রায়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত, চাপে মমতা

4

সেরা গোলের দৌড়ে মেসি-আলভারেজ, সমর্থকদের ভোটে নির্বাচিত হবে ব

5

ইরানে পাল্টা হামলা চালাল ইসরায়েল

6

ট্রাম্পের বলরুম প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৬০০ মিলিয়ন ডলার

7

আস্থা ভোটে টিকে গেলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

8

এইচএসসিতে প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু

9

কাঁধে বই, হাতে বাদামের ঝোলা, ছোট্ট মাহিমের ওপর পুরো সংসার

10

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে যা যা থাকছে

11

বেইজিং পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

12

ভোজিনিয়াকে নিয়ে ব্রাজিলের দুই ক্লাবের টানাটানি

13

নাটকীয় ড্রয়ে নকআউটে মিসর, অপেক্ষায় ইরান

14

মার্কিন পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ট্রাম্পের ছবি

15

হঠাৎ ফেসবুক-মেসেঞ্জারে বিভ্রাট, বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের ভোগ

16

কেইনকে কালো জাদু করতে ওঝা আনল ঘানা

17

ব্রাজিল ভক্তদের জন্য অস্বস্তিকর এক পরিসংখ্যান, যেখানে এগিয়ে

18

ইউটিউবে ফিরছে ডাইরেক্ট মেসেজিং ফিচার

19

২৫ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির

20