ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভারতে ‘তেলাপোকা পার্টি’ নিয়ে তরুণদের ঝড়

ভারতে সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই অনলাইন আন্দোলন দ্রুত তরুণদের অসন্তোষের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ, বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে, যখন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত কিছু বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। পরে তিনি দাবি করেন, মন্তব্যটি নির্দিষ্ট কিছু ভুয়া ডিগ্রিধারী ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেন। বিজেপির নামের সঙ্গে মিল রেখে গঠিত এই প্ল্যাটফর্ম দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দলটির অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটিতে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিজিৎ দীপকের ভাষায়, সিজেপি মূলত সেইসব তরুণদের কণ্ঠস্বর, যারা নিজেদের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাছে অবহেলিত মনে করেন। তিনি বলেন, বেকারত্ব, শিক্ষা খাতে অনিয়ম এবং সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনাগুলো তরুণদের হতাশাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

ভারতে প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার আশায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফলাফল জটিলতা ও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে বহু শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। এসব ঘটনার কারণে সরকারের প্রতি তরুণদের আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে পাচ্ছেন না। ফলে শিক্ষা ও চাকরির বাজারের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রথম বড় রাজপথ কর্মসূচিতে শত শত তরুণ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানান। আন্দোলনকারীদের মতে, বারবার পরীক্ষা সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখনই এই আন্দোলনকে মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের নির্বাচনী হুমকি হিসেবে দেখছেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনও ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। তবুও তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং সামাজিক মাধ্যমে সিজেপির দ্রুত জনপ্রিয়তা ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন এক বার্তা দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘তেলাপোকা পার্টি’ আপাতত একটি প্রতীকী প্রতিবাদ হলেও এটি তরুণদের হতাশা, ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে এই অসন্তোষ সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টানা তিন ম্যাচে ম্যাচসেরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

1

কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে যা ভাবাচ্ছে মার্টিনেজকে

2

ময়মনসিংহে ৫৪৯ বোতল ভারতীয় মদসহ আটক ৩

3

কথা কম বলে জবাবটা মাঠেই দিতে ভালোবাসি:রোমেরো

4

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতলো বাংলাদেশ, নিশ্চিত এশিয়ান চ্য

5

আলজেরিয়া বাধা পেরিয়ে জয় দিয়ে শুরু করতে চায় আর্জেন্টিনা

6

প্রথম ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন নেইমার

7

তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া

8

চীন সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

9

শিশুদের অ্যালার্জি কমানোর নতুন উপায়

10

মে মাসের মধ্যেই হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশাবা

11

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনায় চীন ও রাশিয়া

12

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৫৭৬৬ জন হজযাত্রী

13

আসামিদের গ্রেপ্তার জরুরি বলছেন আইনজীবী

14

মেসি কি লাল কার্ড থেকে বেঁচে গেলেন

15

সবশেষ কবে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল জাপান? জেনে নিন

16

পর্তুগালকে রুখে দিলো কঙ্গো, ১-১ গোলে ড্র

17

গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে: মির্জা ফখরুল

18

চট্টগ্রামে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

19

যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

20