অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মীরসরাইয়ে সমুদ্রবন্দর-শিল্প পার্ক নির্মাণে ২০০ কোটি ডলারের প্রকল্প

মীরসরাইয়ে সমুদ্রবন্দর-শিল্প পার্ক নির্মাণে ২০০ কোটি ডলারের প্রকল্প

চট্টগ্রামের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি আধুনিক সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানিভিত্তিক শিল্প পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে জাপানের সোজিৎজ কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশের এনার্জিপ্যাক। প্রস্তাবিত প্রকল্পটিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলার। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের পরিচালক নুরুল আক্তার জানিয়েছেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতেই পিপিপি মডেল বেছে নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে কোম্পানি দুটি।

প্রথম ধাপে বিনিয়োগ ১২০ কোটি ডলার

প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সমুদ্রবন্দরের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ বন্দর নির্মাণে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২০০ কোটি ডলারে।

নুরুল আক্তারের মতে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থায়ন সহজ হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঋণদাতা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির জন্য একটি বিকল্প ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্য

নুরুল আক্তার বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সে সময় চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে বাড়তি পণ্য পরিবহনের চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে। তাই অর্থনৈতিক অঞ্চলকেন্দ্রিক বাণিজ্য পরিচালনায় নতুন সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রস্তাবিত বন্দরে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার কার্গো জাহাজ ভেড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বড় জাহাজ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও কাঁচামাল খালাসের ব্যবস্থা থাকলে আমদানি ব্যয় ও পরিবহন খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে প্রস্তাবিত বন্দরের সক্ষমতা ও চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে এর তুলনামূলক কার্যকারিতা চূড়ান্ত নকশা, নৌপথের গভীরতা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ফলের ওপর নির্ভর করবে।

বেজার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই

প্রকল্পের জন্য জমি পেতে সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ভূমি ইজারা চুক্তি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

চুক্তি সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠান দুটি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। এরপর প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কাছে আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্ভর করবে জমি বরাদ্দ, সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত অনুমোদন, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।

জ্বালানি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, সোজিৎজ কর্পোরেশনকে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশে উৎসাহিত করেছে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে সহযোগিতার উদ্যোগ। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, অবকাঠামো, শিল্প পার্ক এবং বন্দর আধুনিকায়ন।

সোজিৎজ এমন একটি অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বড় মাদার ভেসেল নোঙর করতে পারবে এবং বিপুল পরিমাণ পণ্য খালাস করা যাবে। এতে বিভিন্ন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি সহজ হতে পারে।

এনার্জিপ্যাকের নুরুল আক্তার বলেন, প্রযুক্তি ও জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বাল্ক পণ্য খালাসের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। নতুন বন্দরের মাধ্যমে এ ধরনের পণ্য পরিবহন ও খালাসের ব্যবস্থা করা গেলে ব্যবসার খরচ কমতে পারে।

এক লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি লজিস্টিকস, শিপিং, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

জাপানি প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, চিকিৎসা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কয়লা, খাদ্য ও বস্ত্রসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের আগ্রহ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য সংখ্যা এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুফল নির্ভর করবে বিনিয়োগের বাস্তবায়ন, শিল্পকারখানা স্থাপন, বন্দরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের পরিমাণের ওপর।

বড় প্রকল্পে বিদেশি অংশীদারত্বের গুরুত্ব

নুরুল আক্তারের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন। সোজিৎজের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সেই সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, পণ্য পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত বিনিয়োগ, সময়সীমা ও অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই এর বাস্তব অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ! দীর্ঘ জীবনের রহস্

1

ভারতে বাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ২০

2

বিশ্বকাপে ইরানের বিদায়ে ‘খুশির নাচ নেচেছেন’ মার্কিন কর্মকর্ত

3

প্রিয়াঙ্কা-অরল্যান্ডো জুটি আসছে নতুন সিনেমা

4

রদ্রিকে দলে ভেড়াতে রিয়াল মাদ্রিদকে পেছনে ফেলল বার্সেলোনা

5

ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোকে ১৬ জনের মৃত্যু

6

পানির বোতলে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডানের নকল ধরা পড়ল

7

মেসির ছেলে থিয়েগোতেই ২০৩০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্

8

শিশুদের জন্য বই লিখলেন জামাল মুসিয়ালা

9

ঈদযাত্রায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২২ কিলোমিটার যানজট

10

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ-দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত

11

মেসির দলে যোগ দিলেন ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো

12

নানির দেশের আদরে মুগ্ধ রোনান সুলিভানরা

13

ব্রাজিল দলে মেসিকে চান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

14

আফগান-পাক উত্তেজনায় ব্রিটিশ মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক বিরোধ

15

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশল

16

শনিবার থেকে ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু

17

আগস্টে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা ইসির

18

ঈদযাত্রা: ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ১৩ মে

19

মায়ের মৃত্যুতে বিশ্বকাপ ছেড়ে দেশে ফিরছেন ফ্রান্স কোচ

20