ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় চ্যালেঞ্জ ইরানের মশা নৌবহর

সংগৃহীত

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা এখন ছোট অস্ত্রসজ্জিত নৌকার ওপর নির্ভরশীল। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ছোট নৌকাগুলোই বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের কৌশলগত চাপ তৈরি করছে।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের ভাষায়, ইরানের এই ছোট ও দ্রুতগতির নৌকার বহরকে বলা হয় ‘মশা নৌবহর’। আকারে ছোট হলেও এগুলো দ্রুত আক্রমণ, ঘেরাও, বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ Strait of Hormuz দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌকাগুলোর মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি করতে চাইছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সামরিক অবস্থান পুনর্বিবেচনায় বাধ্য হয়।

এই কৌশলের শুরু ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়। সে সময় মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানের বড় যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ছোট, দ্রুতগতির নৌযানভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করে তেহরান। পরে এটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সামুদ্রিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বহরের মূল উদ্দেশ্য সরাসরি যুদ্ধ নয়; বরং প্রতিপক্ষকে হয়রানি করা, ঝুঁকি বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা। অনেক নৌকায় মেশিনগান, রকেট ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। কিছু নৌকা আবার বেসামরিক বা মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নৌযান পরিবর্তন করেও তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব নৌকা পানির খুব কাছাকাছি চলাচল করায় রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। ফলে এগুলো শনাক্ত করতে ড্রোন, টহল বিমান ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন হয়।

ধারণা করা হয়, ইরানের কাছে এ ধরনের ৫০০ থেকে এক হাজারের বেশি দ্রুতগতির নৌকা রয়েছে। এসব নৌযানের অনেকগুলো দক্ষিণ উপকূলের গোপন ঘাঁটি, গুহা ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় রাখা হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি মূলত এক ধরনের ‘সামুদ্রিক গেরিলা যুদ্ধ’। সরাসরি বড় যুদ্ধ এড়িয়ে ছোট ছোট হামলা, মাইন পাতা, ড্রোন ব্যবহার এবং দ্রুত আঘাত করে সরে যাওয়ার কৌশল অনুসরণ করছে আইআরজিসি।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে এই রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেল পরিবহন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্কে হাইকোর্টের তদন্ত নির্দ

1

নোয়াখালীতে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

2

শুভেন্দুর শপথের দিনেই কর্মসূচি মমতার

3

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের সমাপ্তি

4

পাকিস্তানে সেনা বহনকারী ট্রেনে আত্মঘাতী হামলা

5

ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ৬

6

হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলামকে গ্রেফতার

7

ঈদে ডিজিটাল লেনদেন সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশন

8

সুয়ারেজকে ছাড়াই বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা উরুগুয়ের

9

এনসিপির ‘নারীশক্তি’র নেতৃত্বে দিবেন যারা

10

দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

11

সোনার দাম কমল ভরিতে ২১৫৮ টাকা

12

সোনালি মুরগির দাম হু হু করে বাড়ছে কেন?

13

আমি শিবের ভক্ত, বিষ গিলে নেব: মোদি

14

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক

15

জুলাইয়ে শিক্ষার্থীরা পাবে পাটের ব্যাগ ও পোশাক

16

ভাঙনের ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের পারকি উপকূল

17

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তনু হত্যা মামলায় নতুন গতি

18

খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন জাইমা রহমা

19

শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন

20