পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাত নিরসনে দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, পাহাড়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার এবং স্থানীয় সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা এবং স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সেখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা ও সংঘাত দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতির পথে বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যাগুলো এক দিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের রক্তপাত বা সংঘাত সমর্থন করে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। কোনো পক্ষকে বাদ দিয়ে কিংবা হানাহানির মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে সংলাপ, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় কিংবা সমতল—যেখানেই হোক, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারী এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আব্দুল হালিম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
মন্তব্য করুন