অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইসরায়েলের নির্বাচনে কেন গুরুত্বপূর্ণ আরব দলগুলো?

ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করা হলেও দেশটির সব নাগরিক ইহুদি নন। সেখানে বসবাসকারী আরব নাগরিকদেরও ভোট দেওয়া, রাজনৈতিক দল গঠন এবং পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার রয়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনে আরব-প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য আসন বৃদ্ধি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরব-প্রধান দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে। আগের পার্লামেন্টে তাদের আসন ছিল ১০টি। এই পূর্বাভাস বাস্তব হলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু কারা এই ইসরায়েলি আরব, কীভাবে তারা দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন এবং তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়লে রাষ্ট্রীয় নীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?

কারা এই ইসরায়েলি আরব?

ইসরায়েলে বসবাসকারী আরব নাগরিকদের সাধারণত ‘ইসরায়েলি আরব’ বা ‘আরব ইসরায়েলি’ বলা হয়। তাদের একটি বড় অংশ সেই ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর সদস্য ও বংশধর, যাঁরা ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় ওই ভূখণ্ডে বসবাস করতেন এবং আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পরও নতুন রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে থেকে যান।

বর্তমানে ইসরায়েলে আরব নাগরিকের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ।

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের প্রধানত তিনটি গোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়—সুন্নি মুসলিম, খ্রিষ্টান ও দ্রুজ। তাদের মধ্যে সুন্নি মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। আরব জনসংখ্যার প্রায় ৮৪ শতাংশ এই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। নেগেভ ও উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী বেদুইন জনগোষ্ঠীরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

আরব জনসংখ্যার আনুমানিক ৮ শতাংশ খ্রিষ্টান। তাঁদের অধিকাংশ গ্রিক অর্থোডক্স ও ক্যাথলিক চার্চের অনুসারী। বাকি প্রায় ৮ শতাংশ দ্রুজ সম্প্রদায়ের মানুষ। জাতিগতভাবে আরব পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক ঐতিহ্যের কারণে দ্রুজদের স্বতন্ত্র পরিচয় রয়েছে।

ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের পরিচয়ের সঙ্গে নাগরিকত্ব, জাতিগত ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক বাস্তবতা জড়িয়ে আছে। তাঁরা ইসরায়েলের নাগরিক হলেও পশ্চিম তীর, গাজা ও অন্যান্য অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে তাঁদের অনেকে নিজেদের ‘ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক’ হিসেবে পরিচয় দেন।

ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা ভোট দিতে, রাজনৈতিক দল গঠন করতে এবং নেসেটের সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন। তবে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার অধিকাংশ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের নাগরিক নন। ফলে তাঁরা দেশটির জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না।

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আরব দলগুলো আসন পায় যেভাবে

ইসরায়েলের পার্লামেন্টের নাম নেসেট। এর মোট আসনসংখ্যা ১২০। দেশটির নির্বাচনে ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; বরং রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পার্লামেন্টে আসন বণ্টন করা হয়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি।

এই নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে আরব-প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক শক্তির বাইরে থেকেও আরব দলগুলোর পক্ষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন অর্জন করা সম্ভব।

সরকার গঠনে কেন ৬১ আসন গুরুত্বপূর্ণ?

ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য ১২০ সদস্যের নেসেটে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কোনো একটি দল এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জোট সরকার গঠন করতে হয়।

উদাহরণ হিসেবে, একটি দল ৪৮টি আসন পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তবে অন্য একটি দলের ২৪টি আসনের সমর্থন পেলে তাদের সম্মিলিত আসনসংখ্যা হবে ৭২। এভাবে একাধিক দল জোট গঠন করে সরকার পরিচালনার সুযোগ পায়।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে জোটের গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য সাফল্য

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব-প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তি বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। একটি রা’আম বা ইউনাইটেড আরব লিস্ট, অন্যটি জয়েন্ট লিস্ট।

দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, রা’আম সাতটি এবং জয়েন্ট লিস্ট ১১ থেকে ১২টি আসন পেতে পারে। সে হিসাবে দল দুটির সম্মিলিত আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৮ থেকে ১৯টি। আগের পার্লামেন্টে তাদের আসন ছিল পাঁচটি করে, অর্থাৎ মোট ১০টি।

এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে পার্লামেন্টে আরব দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত ফলাফল নয়। ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পরই প্রকৃত আসনসংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছানোর প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়লে আরব দলগুলোর নির্বাচনী সাফল্যেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

আরব দলগুলোর নেতাদের প্রত্যাশা, ভোটারদের অধিক অংশগ্রহণ পার্লামেন্টে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে। পাশাপাশি সরকার গঠনের আলোচনা ও জাতীয় রাজনীতিতে দর-কষাকষির ক্ষমতাও জোরদার হতে পারে।

নেতানিয়াহুর ক্ষমতার সমীকরণে আরবরা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির—কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। জরিপভেদে নেতানিয়াহুর জোট ৫০ থেকে ৫২টি এবং বিরোধী শিবির ৪৯ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অথচ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।

এমন পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ১৮ থেকে ১৯টি আসন সরকার গঠনের হিসাব বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী শিবির আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে নেতানিয়াহুর জোটের ক্ষমতায় ফেরার পথ কঠিন হতে পারে।

তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলেই বিরোধী শিবির সরকার গঠন করতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিরোধী জোটের সব দল আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে আগ্রহী নয়। ফলে প্রয়োজনীয় আসন জোগাড়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করে সমঝোতায় পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ।

আরব দলগুলোর প্রধান দাবিগুলো কী?

ইসরায়েলের আরব-প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য শুধু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন বা সরকার গঠনের সমীকরণে প্রভাব বিস্তার করা নয়। দেশটির আরব নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য কমানো, আরব-অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়ন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে দলগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব আরব দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক কৌশল এক নয়। রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের মধ্যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শগত পার্থক্য রয়েছে।

সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে আরব দলগুলো নিজেদের দাবিদাওয়া বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সমঝোতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে তারা কী শর্ত দেবে এবং সম্ভাব্য জোটের অন্য শরিকেরা তা কতটা মেনে নেবে, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ।

আসন বাড়লেই কি ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নীতি বদলাবে?

পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব বাড়লে আরব দলগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সরকার গঠনের জন্য তাদের সমর্থন প্রয়োজন হলে নিজেদের দাবি আদায়ে দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়তে পারে।

তবে আসনসংখ্যা বৃদ্ধি মানেই রাষ্ট্রীয় নীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন নয়। আরব নাগরিকদের অধিকার, বৈষম্য দূরীকরণ কিংবা ফিলিস্তিন প্রশ্নে কোনো নীতিগত পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক সমঝোতা, জোটের অবস্থান এবং সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

এ ছাড়া আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আপত্তি রয়েছে। ফলে নির্বাচনে ভালো ফল করলেও আরব দলগুলোর পক্ষে নিজেদের সব দাবি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।

শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে ইসরায়েলের রাজনীতি?

নির্বাচনের পর ইসরায়েলের সামনে প্রধান প্রশ্ন হলো, কোন রাজনৈতিক শিবির ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠন করতে পারবে। নেতানিয়াহুর জোট অন্য দলের সমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও আরব দলগুলোর সমর্থনসহ প্রয়োজনীয় আসন জোগাড়ের উদ্যোগ নিতে পারে।

কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সমাধান না মিললে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসন বৃদ্ধি ইসরায়েলের রাজনীতিতে তাদের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এই শক্তি সরকার গঠনে কতটা কাজে লাগবে কিংবা রাষ্ট্রীয় নীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।

তথ্যসূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, আল জাজিরা ও দ্য প্রিন্ট।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শীর্ষ দশ দলের মধ্যে বাদ পড়েছে শুধু একটি, কারা সেই দুর্ভাগা

1

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে কবে, জবাবদিহি কোথায়

2

মাদারীপুরের আকাশে রহস্যময় আলোক রশ্মি

3

তারেক রহমানকে নিয়ে যা বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

4

হঠাৎ অবসরে গেলেন আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের বিতর্কিত রেফারি

5

আর্জেন্টিনাকে হারানোর পেছনে ছিল রাজনৈতিক চাপ: পাবলো কাররোজা

6

ফ্রান্সের হাতে আর্জেন্টিনা-মিশরের বাঁশি

7

ভাইরাল ভিডিওতে যুদ্ধবিরতির তেহরান দেখে স্তম্ভিত বিশ্ব

8

দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

9

জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করতে সিঙ্গাপুরে অস্ট্রেলিয়ার

10

স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দের চমক

11

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনা দলে ছিল অন্য আবেগ

12

কৃত্রিম বৃষ্টি নামিয়ে মরুভূমিকে সবুজ করবে সৌদি আরব

13

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় আটকে গেল শিক্ষক পদে নিয়োগ

14

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস নিয়ে এবার মুখ খুললেন হালান্ড

15

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

16

ঈদে পশুর হাটে জাল নোট ঠেকাতে ব্যাংকের বিশেষ বুথ বসানোর নির্দ

17

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে টপকে গেলেন মেসি

18

ঢাকায় মঙ্গলবার ১১ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষণা

19

সেরাদের পতন হলেই মধ্যপন্থিরা আনন্দ করে-মার্টিনেজ

20