ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মা মানেই নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব, ভালোবাসা আর ত্যাগের এক অনন্ত গল্প

ছবি: সংগৃহীত

ভোরের আলো ফোটার আগেই যে মানুষটির দিন শুরু হয় এবং সবার শেষে ঘুমাতে যান, তিনি একজন মা। তার কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, নেই ছুটি কিংবা বিশ্রামের আলাদা সুযোগ। সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব, সন্তানের প্রতিটি চাহিদা এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের খোঁজখবর—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি। মা হওয়া শুধু একটি সম্পর্ক নয়, এটি নিঃস্বার্থ দায়িত্ব ও সীমাহীন ভালোবাসার আরেক নাম।

একজন মা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সন্তানের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেন। সন্তানের খাবার, পড়াশোনা, স্বাস্থ্য কিংবা মানসিক অবস্থা—সবকিছুতেই তার সতর্ক নজর থাকে। সন্তানের সামান্য অসুস্থতাও একজন মায়ের ঘুম কেড়ে নেয়। আবার সন্তানের একটি হাসি মুহূর্তেই তার সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। নিজের শারীরিক কষ্ট কিংবা মানসিক চাপ আড়াল করে সন্তানের ভালো থাকাকেই অগ্রাধিকার দেন তিনি।

তবে বাস্তবতা হলো, পরিবারের অনেকেই মায়ের এই নিরলস পরিশ্রমকে স্বাভাবিক দায়িত্ব হিসেবেই ধরে নেন। ফলে তার ক্লান্তি, অবসাদ কিংবা না বলা কষ্টগুলো অনেক সময় গুরুত্ব পায় না। অথচ একজন মায়েরও প্রয়োজন বিশ্রাম, মানসিক সমর্থন এবং নিজের জন্য কিছুটা সময়। পরিবার যদি তার পাশে দাঁড়ায় এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেয়, তাহলে তার জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে ওঠে।

বর্তমান সময়ে অনেক মাকেই ঘর ও বাইরের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হয়। অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে রান্না, সন্তানের পড়াশোনা ও পরিবারের দেখভাল—সবকিছুই সামলাতে হয় সমান দক্ষতায়। এই অদৃশ্য চাপ নিয়েই প্রতিদিন এগিয়ে চলেন অসংখ্য কর্মজীবী মা।

ব্যাংকার ও দুই সন্তানের মা তানিয়া কামাল বলেন, “সকালে অফিস, তারপর বাসায় ফিরে আবার পুরো সংসার সামলানো—অনেক সময় মনে হয় আমি যেন দুইটি ফুলটাইম চাকরি করছি। কিন্তু সন্তানদের হাসি দেখলেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। মা হওয়ার মধ্যেই এক ধরনের শক্তি আছে।”

আবার অনেক মা আছেন, যারা একাই মা ও বাবার দায়িত্ব পালন করেন। স্বামী হারানো বা বিচ্ছেদের পর সন্তানকে মানুষ করতে একাই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য তারা লড়াই থামান না।

সিঙ্গেল মা রুবিনা আক্তার বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই সন্তানের জন্য আমাকেই মা-বাবা দুজনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অনেক কঠিন সময় গেছে, এখনও যায়। কিন্তু সন্তানের সামনে কখনও দুর্বল হই না। মা হওয়া শুধু ভালোবাসা নয়, এটি এক ধরনের যুদ্ধও।”

অন্যদিকে গৃহিণীদের কাজও অনেক সময় অদৃশ্য থেকে যায়। পরিবারের সবাইকে সামলাতে গিয়ে নিজের জন্য সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে তাদের।

গৃহিণী নুসরাত জাহান ইমি বলেন, “অনেকেই মনে করেন বাসায় থাকি বলে কাজ কম। কিন্তু একজন গৃহিণীর কাজের কোনো শেষ নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের জন্য কাজ করি। নিজের জন্য আলাদা সময় পাই না, তবুও পরিবারের হাসিই আমার শান্তি।”

মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপনের দিন নয়, বরং মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন, সম্মান ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই একজন মায়ের ত্যাগকে সত্যিকার অর্থে মূল্যায়ন করা সম্ভব।

আসলে ‘মা’ শব্দটির ভেতরে লুকিয়ে আছে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ। একজন মা কখনও নিজের কাজের হিসাব রাখেন না, নিজের জন্য ছুটি চান না। তার প্রতিটি মুহূর্তই নিবেদিত থাকে সন্তানের ও পরিবারের জন্য। প্রতিদিনই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেতানিয়াহু ও আমি যুদ্ধের নায়ক: ট্রাম্প

1

ইরানি হামলার পর কুয়েত বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত

2

মেয়র নির্বাচনের ঘোষণা নীলা ইসরাফিলের

3

খেলাপি ঋণ কমার আড়ালে বাড়ছে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি

4

তাপপ্রবাহে ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

5

পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

6

দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে: জামায়াত আমির

7

মতিঝিলে গ্রেফতার ২৮ মামলার আসামি ‘বোমা বিদ্যুৎ’

8

যানজট নিয়ন্ত্রণে ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে প্রশাসনের বিশেষ পরিক

9

বাংলাদেশ–তুরস্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে যৌথ উদ্যোগ

10

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩: ডা. শফিকুর রহমানের শুভেচ্ছা

11

পাঁচ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

12

সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ না হলে সুসম্পর্ক সম্ভব নয় ; রিজভী

13

ঈদের আগে রফতানি খাতে ৩১০০ কোটি টাকা ছাড়

14

২০ মাসে ধর্ষণ ও নির্যাতনে নিহত ৬৪৩ শিশু

15

ভারতের ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ১০৭ মুসলিম প্রার্থী

16

ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জার্মান চ্যান্সেলরের

17

আবারও পুরোদমে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত ভিসা

18

ইরাকের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নেই লামিনে ইয়ামাল

19

সিরাজগঞ্জে বাসের চাপায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল অটোভ্যান

20