ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সংগীতের এক বিশেষ উন্মাদনা। আর এই সংগীতের জগতে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হলো কলম্বিয়ান ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরা। একাধিক বিশ্বকাপে তার গান ও পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা তৈরি করেছে।
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ফিফার অফিসিয়াল গান না হলেও শাকিরার ‘হিপস ডোন্ট লাই (বাম্বু রিমিক্স)’ টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। মাঠের উত্তেজনা আর তার নাচ-গানের মিশেলে তৈরি হয় এক ভিন্নধর্মী বিশ্বকাপ আবহ।
এরপর ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে শাকিরা ইতিহাস গড়েন অফিসিয়াল থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা: দিস টাইম ফর আফ্রিকা’ দিয়ে। গানটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে বিপুল সাড়া ফেলে এবং আজও বিশ্বকাপ সংগীতের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। আফ্রিকান সুর ও ফুটবলের আবেগ মিলে এটি হয়ে ওঠে এক বৈশ্বিক উৎসবের প্রতিচ্ছবি।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে তিনি আবারও হাজির হন ‘লা লা লা (ব্রাজিল ২০১৪)’ গান নিয়ে, যা অফিসিয়াল গান না হলেও জনপ্রিয়তার দিক থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে ছিল না। এই সময় থেকেই বিশ্বকাপ সংগীতে শাকিরার প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে ‘লাইভ ইট আপ’ (২০১৮) এবং ‘হায়া হায়া’ (২০২২) সহ একাধিক গান বিশ্বকাপের পরিবেশকে আরও রঙিন করে তোলে। তবে অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে বিশ্বকাপের নস্টালজিয়া এখনো শাকিরাকেন্দ্রিক।
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও ফিরেছেন শাকিরা। নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে তিনি গেয়েছেন অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’। এই গানকে তিনি উৎসর্গ করেছেন সেই সব শিশুদের, যারা বড় স্বপ্ন দেখে এবং প্রতিকূলতার মাঝেও এগিয়ে যায়।
শাকিরা জানান, প্রতিটি চ্যাম্পিয়ন একসময় সাধারণ শিশু ছিল, যারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেছে। তার মতে, বিশ্বাস ও সমর্থনই একজন মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়।
২০০৬ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ সময়ে শাকিরা বিশ্বকাপ সংগীতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন, যা তাকে ফুটবল ও সংগীত ইতিহাসে বিশেষ স্থান দিয়েছে।
মন্তব্য করুন