ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আকাশের নীল রং কি চিরস্থায়ী

সংগৃহীত

আমরা প্রতিদিন যে নীল আকাশ দেখি, সেটিকে অনেকেই চিরন্তন বলে মনে করি। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, পৃথিবীর ইতিহাসে আকাশের রং সবসময় একই ছিল না এবং ভবিষ্যতেও এটি পরিবর্তিত হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের আলো ও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই আমরা আকাশকে নীল দেখি।

বিজ্ঞানীরা জানান, সূর্যের সাদা আলোতে রংধনুর সব রং থাকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের ক্ষুদ্র কণাগুলো আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এটি অন্য রঙের চেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আমাদের চোখে আকাশ নীল দেখায়। এই প্রক্রিয়াটিকে ‘রেইলি বিক্ষেপণ’ বলা হয়।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যের আলোকে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। তখন নীল আলো বেশি ছড়িয়ে পড়ে এবং লাল ও কমলা রং আমাদের চোখে বেশি দৃশ্যমান হয়। এ কারণেই ভোর ও সন্ধ্যায় আকাশে লালচে আভা দেখা যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর মতো উজ্জ্বল নীল আকাশ সৌরজগতের অন্য গ্রহে খুব একটা দেখা যায় না। বৃহস্পতিতে হালকা নীল স্তর থাকলেও সেটি পৃথিবীর মতো স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডল পাতলা হওয়ায় সেখানে ধূলিকণার কারণে আকাশ লালচে বা হলুদাভ দেখায়। এমনকি সেখানে সূর্যাস্তের সময় নীল আভাও দেখা যায়।

গবেষকদের ধারণা, পৃথিবী সৃষ্টির শুরুর দিকে আকাশ আজকের মতো নীল ছিল না। প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন ও মিথেনের আধিক্য ছিল। সে সময় আকাশে কমলা রঙের ধোঁয়াশা থাকতে পারে বলে মনে করা হয়। পরে সায়ানোব্যাকটেরিয়া সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন উৎপাদন শুরু করলে ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে এবং আকাশ বর্তমানের নীল রং ধারণ করে।

বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, দূষণ, দাবানল, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা ধূলিঝড় সাময়িকভাবে আকাশের রং বদলে দিতে পারে। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক লাল ও সবুজ সূর্যাস্ত দেখা গিয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও ভবিষ্যতে আকাশের রঙে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে সূর্যের বিবর্তনের কারণে। বিজ্ঞানীদের মতে, আরও প্রায় এক বিলিয়ন বছর পর সূর্য আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এবং পৃথিবী অতিরিক্ত উত্তপ্ত হতে শুরু করবে। তখন বায়ুমণ্ডলের গঠন বদলে গিয়ে নীল আকাশ ধীরে ধীরে সাদা বা হলদেটে রং ধারণ করতে পারে।

আরও দূর ভবিষ্যতে, প্রায় পাঁচ বিলিয়ন বছর পরে সূর্য যখন লাল দানবে পরিণত হবে, তখন পৃথিবীর আকাশ গভীর লাল রং ধারণ করবে বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে সেই সময় পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মানবজাতি হয়তো তখন অন্য কোনো গ্রহে নতুন নীল আকাশের খোঁজে পাড়ি জমাবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তিস্তাপাড়ে ভালবাসার বাজারে এক টাকায় ঈদের বাজার

1

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ মরক্কোর

2

সংকটের সময়ে ইরানে ত্রাণ পাঠালো কাজাখস্তান

3

গ্রিন কফি কিভাবে চুল পড়া কমায়? জেনে নিন

4

ইসি থেকে ১২৫ জনের মনোনয়ন সংগ্রহ

5

আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে, সরাসরি সম্প্রচা

6

২৫ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির

7

বিএনপির ৩৬ সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আবেদন সাত শতাধিক, আলোচনা

8

ভারতের ৫ রাজ্যের বিধানসভা ফলাফল: কোথায় কে গড়ছে সরকার

9

ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্নে: মন্দায় শিল্প খাত

10

দীর্ঘ বিরতির পর খুলছে ইরানের শেয়ারবাজার

11

আড়াল থেকেই ইরানের যুদ্ধকৌশল নিয়ন্ত্রণ করছেন মোজতবা খামেনি

12

মাদারীপুরে একই পরিবারের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার

13

পার্থকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন জামায়াত আমির

14

ডিজিটাল লেনদেনে কমবে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার : গভর্নর

15

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক মেরে খাওয়ার ঘটনা শুনে অবাক তা

16

চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ‘আরও মূল্যবান’

17

নৌবাহিনী কলেজে বিজ্ঞান মেলা

18

হাম ও উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

19

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

20