অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ২

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, শামীম মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে হামলার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আনুমানিক ২৪০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রথমে সড়কে, পরে হাসপাতালে হামলা

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি শামীমের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাঁর ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।

পরে শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মধ্যরাতে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফেসবুক লাইভে অভিযোগ ছড়ানোর দাবি পরিবারের

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফজলুল হক আমিনী নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে শামীমের বিরুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তাঁদের অভিযোগ, এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে শামীমের ওপর হামলা চালানো হয়।

তবে ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

মানসিক অসুস্থ ছিলেন শামীম, দাবি স্বজনদের

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওয়াহিদুজ্জামান শামীম বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগের সত্যতা যাই হোক না কেন, কোনো ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা আইনসম্মত নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং উসকানির অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সব বোমার জননী’ কেন বলা হয় এই বোমাকে? জানলে অবাক হবেন

1

লাখ টন জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ জাহাজ

2

‘ও আমার চেয়েও বড় হবে’ ছেলেকে নিয়ে রোনালদোর বড় স্বপ্ন

3

বিতর্কিত পোস্ট করায় শাস্তি পেলেন করণ কেসি

4

আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে, সরাসরি সম্প্রচা

5

আইপিএলে একা সূর্যবংশীই জিতলেন পাঁচ পুরস্কার

6

চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ‘আরও মূল্যবান’

7

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা এডিবির

8

রোমাঞ্চকর বিশ্বকাপে এবার খেলবেন সাত জোড়া ভাই

9

প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন

10

ঈদে পশুর হাটে জাল নোট ঠেকাতে ব্যাংকের বিশেষ বুথ বসানোর নির্দ

11

বিশ্বকাপের ৬০ বছরের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড মেসির দখলে, দ্বি

12

কাতার ও ইসরায়েলকে ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

13

ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

14

কৈলাস দর্শনের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে নেপালে নিখোঁজ দম্পতি, অ

15

ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনটিকে ‘জাতীয় দিবস’ ঘোষণা করল আর্জেন্টি

16

হরমুজে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই জাহাজে হামলা

17

লালমনিরহাটে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

18

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

19

উৎসবের আমেজে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

20