ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির ২২৮ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট |সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে The Washington Post। বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বিমান সংরক্ষণাগার, সেনা ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, সামরিক বিমান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি। এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছিল, নতুন বিশ্লেষণ তার চেয়েও বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কয়েক দিন আগে CNN-ও এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট আরও জানায়, সামরিক কর্মকর্তাদের মতে ইরানের হামলার ঝুঁকি এতটাই বেড়েছে যে অঞ্চলের কিছু মার্কিন ঘাঁটি এখন স্বাভাবিক সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এজন্য যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মার্কিন কমান্ডাররা অনেক সেনা ও সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।

তবে এক সামরিক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, এসব ক্ষয়ক্ষতির তথ্যকে পুরোপুরি সামরিক ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তার ভাষায়, ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ একটি জটিল বিষয় এবং কিছু বিশ্লেষণ বিভ্রান্তিকর ধারণাও তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর সামরিক বাহিনী ইরানের হামলা এবং এর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে পারবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী Pete Hegseth সম্প্রতি কংগ্রেসে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় মজুত করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই পেন্টাগন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের বড় ধরনের বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রতিফলন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাতারকে ৬-০ তে উড়িয়ে কানাডার ঐতিহাসিক জয়

1

পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন শিক্ষক বিউটি রাণী

2

১৮ বছরের কম বয়সীদের মোবাইল ব্যবহার না করতে কার্যকর পদক্ষেপ

3

লালমনিরহাট সীমান্তে ৭ পাসপোর্টসহ আটক সাবেক ডিজি সাব্বির

4

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বাড়ছ

5

অনুশীলনে মেসির শটে ভাঙল ফটোগ্রাফারের ক্যামেরা

6

১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল, বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

7

ঈদের দিন বর্জ্য অপসারণের সময় নির্ধারণ ঢাকা উত্তরের

8

মাহফুজ আলম–এমপি সেলিমের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিতর্ক

9

আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা

10

সংসদে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বয়সসীমা বাতিল বিল পাস

11

মেসিকে টপকে শীর্ষে বেলিংহাম

12

মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরি নাই—আদ্-দ্বীনের দাবি

13

‘ও আমার চেয়েও বড় হবে’ ছেলেকে নিয়ে রোনালদোর বড় স্বপ্ন

14

চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

15

৩৮ বারের ‘যুদ্ধবিরতি দোরগোড়ায়’ দাবি ট্রাম্পের

16

মায়ের পচন ধরা লাশ, যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহা

17

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

18

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

19

স্টারমারের ‘পথ খোঁজার’ আহ্বান ও মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত ভবিষ্

20