ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভারত মহাসাগরই ভবিষ্যৎ যুদ্ধের কেন্দ্র

ছবি : সংগৃহীত

ভারত মহাসাগর এখন শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নয়, বরং বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। করাচিতে আয়োজিত “ইমার্জিং টেকনোলজিস অ্যান্ড দ্য ফিউচার ওয়ারফেয়ার” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ এই মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেবল স্থল বা আকাশে সীমাবদ্ধ থাকবে না—সমুদ্র, বিশেষ করে ভারত মহাসাগর, হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।

অ্যাডমিরাল আশরাফ বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই মহাসাগর দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণে ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তা এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি যুদ্ধের ধারণাকেই বদলে দিচ্ছে। সামরিক ও বেসামরিক প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য ক্রমশ কমে আসছে, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি যুদ্ধের নতুন রূপ তৈরি করছে। এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

পাকিস্তান নৌপ্রধানের মতে, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সামরিক শক্তি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শিল্পখাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়ন করে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ওমানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা এবং উত্তর আরব সাগরে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ও ড্রোনের সফল পরীক্ষা তাদের প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া অতীতে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময়ও নৌবাহিনীর কৌশলগত অবস্থান উল্লেখযোগ্য ছিল বলে দাবি করা হয়। বিশেষ করে আরব সাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক রুট সচল রাখা তাদের একটি বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

সবশেষে, অ্যাডমিরাল আশরাফের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—ভারত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তার এখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য। এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর পড়বে। তাই প্রযুক্তি ও আধুনিক রণকৌশলের সমন্বয়েই ভবিষ্যতের সামুদ্রিক শক্তির লড়াই নির্ধারিত হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

1

কাগজশিল্পে শুল্ক-কর কমানোর দাবি

2

মাদারীপুরের আকাশে রহস্যময় আলোক রশ্মি

3

বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মহারণ

4

কম খেলেও ওজন বাড়ে কেন

5

বদির জামিন স্থগিত করল আপিল বিভাগ

6

বিশ্বকাপের আগে ইরানের অভিযোগ, স্টাফদের ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট

7

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় অনিশ্চয়তা, আবারও তেলের দাম বৃদ্ধি

8

ফুটবলার পরিচয়ের ঊর্ধ্বে এক মানবিক মেসি

9

সুয়ারেজকে ছাড়াই বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা উরুগুয়ের

10

জাতীয় সংসদে ১২টি বিল পাস

11

যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে ইসরাইলি হামলা নিহত ৪১

12

না ফেরার দেশে চলে গেলেন মেসির বাবা

13

জার্মান গণিতবিদকে পরের বিশ্বকাপে চেষ্টা করতে বলে নেইমারের খো

14

মেসির ৭ মিনিটের ম্যাজিকে ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে আর্জেন্

15

ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: গভর্নর

16

দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিম ৩২ কোটি ৮২ লাখ

17

শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্

18

তারেক রহমানকে সিলিংয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

19

‘এটাই আর্জেন্টিনা, এই দল কখনো হাল ছাড়ে না’, রুদ্ধশ্বাস জয়ের

20