পাবনা সদর উপজেলার একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের একটি অংশ মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের দড়ি ভাউডাঙ্গা কদমতলা গ্রামের নুরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ছাত্রী অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে রক্ষা পেয়ে গভীর রাতে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে সে স্থানীয়দের কাছে ঘটনার বিবরণ জানায়।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের একটি অংশ মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদ্রাসাটিতে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন আবাসিক এবং বাকিরা অনাবাসিক।
ঘটনার পর আবাসিক শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিরাপদে তাঁদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তিনি পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশ্রাফ জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মন্তব্য করুন