নিজের মালিকানাধীন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলাকে একীভূত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন ইলন মাস্ক। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার। এতে করপোরেট ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ একীভূতকরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
মাস্ক জানিয়েছেন, স্পেসএক্স ও টেসলাকে একীভূত করার সম্ভাবনা যাচাই করতে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির কাজের মধ্যে সমন্বয়ের সুযোগ থাকায় তিনি এ উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় মনে করছেন। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাবে পৌঁছাতে পারেনি কমিটিগুলো।
স্পেসএক্স ও টেসলাকে একীভূত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে টেসলার শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ কারণে একীভূতকরণ নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে ইলন মাস্ক বলেন, অনেকেই স্পেসএক্স ও টেসলার একীভূতকরণকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তবে তাঁর মতে, বিষয়টিকে এভাবে দেখা বাড়াবাড়ি হবে। তিনি উদ্যোগটিকে ভালো সিদ্ধান্ত বলে মনে করলেও শেষ পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থনের ওপরই এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।
একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ বিশেষজ্ঞ জেরায়ার হালেব্লিয়ানের মতে, স্পেসএক্স ও টেসলাকে একীভূত করার পেছনে যৌক্তিকতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটিরই অন্যতম শক্তি উন্নত উৎপাদনপ্রযুক্তি। পাশাপাশি রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও তাদের দক্ষতা রয়েছে।
একীভূতকরণ হলে এক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি, তথ্য ও অভিজ্ঞতা অন্যটির ব্যবসায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে উৎপাদনপ্রক্রিয়া উন্নত করা এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলারের একীভূতকরণ হয়েছিল। স্পেসএক্স ও টেসলার সম্ভাব্য একীভূতকরণের আর্থিক পরিসর এর চেয়েও বড় হতে পারে।
প্রতিষ্ঠান দুটির সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই মূল্যায়ন বাস্তবসম্মত কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ের বাজারমূল্য ও আর্থিক তথ্যের ওপর।
স্পেসএক্স ও টেসলার একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মাস্কের মন্তব্যের পর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেনদেন-পরবর্তী সময়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশের বেশি এবং টেসলার শেয়ারের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে স্পেসএক্স ৪৪০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ১০৫ কোটি ডলার লোকসান করেছিল। অর্থাৎ, ওই হিসাব সঠিক হলে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
তবে স্পেসএক্স ও টেসলার একীভূতকরণ এখনো সম্ভাবনা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন, আর্থিক মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ।
মন্তব্য করুন